মেয়েদের গ্রীষ্মকালে কি কি ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করা উচিত
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড তাপদাহ, ঘাম আর আর্দ্রতা আমাদের ত্বকের বারোটা বাজিয়ে দেয়। এই সময়ে ত্বকে তৈলাক্ত ভাব, র্যাশ, সানবার্ন এবং ব্রণ হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। তাই শীত বা বসন্তের প্রসাধনী দিয়ে গ্রীষ্ম চালানো কেবল অসম্ভবই নয়, বরং ত্বকের জন্য ক্ষতিকরও হতে পারে।
মেয়েদের গ্রীষ্মকালীন রূপচর্চা ও প্রয়োজনীয় প্রসাধনী নিয়ে সাজানো একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন নিচে তুলে ধরা হলো।
ফেসওয়াশ ও ক্লিনজার: সতেজতার প্রথম ধাপ
গ্রীষ্মে বাতাসে ধুলোবালি বেশি থাকে এবং ঘামের কারণে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। তাই এই সময়ে এমন ফেসওয়াশ প্রয়োজন যা ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করবে।
- তৈলাক্ত ত্বকের জন্য: স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা টি-ট্রি অয়েল যুক্ত ফোমিং ক্লিনজার ব্যবহার করা উচিত। এটি অতিরিক্ত সেবাম নিয়ন্ত্রণ করবে।
- শুষ্ক ত্বকের জন্য: মাইল্ড বা হাইড্রেটিং ক্লিনজার বেছে নিন যাতে ত্বক ধোয়ার পর টানটান না লাগে।
- পরামর্শ: দিনে অন্তত দুইবার (সকালে ও রাতে) এবং বাইরে থেকে ফেরার পর অবশ্যই মুখ ধুয়ে ফেলুন।
সানস্ক্রিন: গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় ঢাল
রোদে পোড়া ভাব এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে বাঁচতে সানস্ক্রিনের কোনো বিকল্প নেই। এটি কেবল রূপচর্চা নয়, বরং ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য।
- SPF নির্বাচন: অন্তত SPF 30 থেকে 50 মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
- ব্রড স্পেকট্রাম: নিশ্চিত করুন আপনার সানস্ক্রিনটি 'ব্রড স্পেকট্রাম' (UVA ও UVB উভয় থেকেই সুরক্ষা দেয়) এবং 'PA+++' রেটিং যুক্ত।
- ব্যবহারের নিয়ম: রোদে বের হওয়ার অন্তত ২০ মিনিট আগে ব্যবহার করুন এবং প্রতি ৩-৪ ঘণ্টা অন্তর পুনরায় লাগান।
হালকা ময়েশ্চারাইজার: ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখা
অনেকেই মনে করেন গরমে ময়েশ্চারাইজার দরকার নেই, যা একটি ভুল ধারণা। গরমে ত্বক ঘামলেও ভেতর থেকে পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে।
- জেল-বেসড ময়েশ্চারাইজার: গ্রীষ্মের জন্য ভারী ক্রিমের বদলে ওয়াটার-বেসড বা জেল ময়েশ্চারাইজার সেরা। এটি দ্রুত ত্বকে শুষে নেয় এবং চটচটে ভাব তৈরি করে না।
- উপাদান: হায়ালুরোনিক অ্যাসিড বা অ্যালোভেরা সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার ত্বকের সতেজতা ধরে রাখে।
ফেস মিস্ট ও টোনার
দুপুরের গরমে যখন ত্বক ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন এক চিলতে প্রশান্তি দিতে পারে ফেস মিস্ট।
- টোনার: অ্যালকোহলমুক্ত টোনার ব্যবহার করুন যা ত্বকের pH লেভেল ঠিক রাখবে এবং রোমকূপ সঙ্কুচিত করতে সাহায্য করবে। গোলাপ জল বা শসার রস খুব ভালো প্রাকৃতিক টোনার।
- ফেস মিস্ট: ব্যাগে ছোট একটি ফেস মিস্ট স্প্রে রাখুন। কাজের ফাঁকে মুখে স্প্রে করলে ত্বক সাথে সাথে হাইড্রেটেড বোধ করবে।
গ্রীষ্মকালীন মেকআপ: "লেস ইজ মোর"
গরমে ভারী মেকআপ করলে তা ঘামের সাথে মিশে ত্বকের ছিদ্র বন্ধ করে দেয় এবং মেকআপ দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই এই সময়ে হালকা সাজগোজই বুদ্ধিমানের কাজ।
প্রসাধনীর ধরন গ্রীষ্মকালীন পছন্দ
ফাউন্ডেশন ভারী ফাউন্ডেশনের বদলে BB বা CC ক্রিম ব্যবহার করুন।
পাউডার মেকআপ সেট করতে এবং ঘাম নিয়ন্ত্রণ করতে লুজ পাউডার বা কম্প্যাক্ট ব্যবহার করুন।
কাজল ও লাইনার অবশ্যই ওয়াটারপ্রুফ বা স্মাজপ্রুফ হতে হবে।
লিপস্টিক ম্যাট লিপস্টিক বেশি স্থায়ী হয়, তবে ঠোঁট ফাটা রোধে হালকা টিন্টেড লিপবাম ভালো।
আরো পড়ুন: মেয়েরা কি কি সমস্যার কারণে বাচ্চা ধারন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে
এক্সফোলিয়েশন বা স্ক্রাবিং
মৃত কোষ এবং জমে থাকা ঘাম পরিষ্কার করতে সপ্তাহে অন্তত ১-২ বার স্ক্রাব করা প্রয়োজন। তবে অতিরিক্ত স্ক্রাবিং করবেন না, এতে ত্বক সেনসিটিভ হয়ে যেতে পারে। কফি, চিনি বা ওটমিলের ঘরোয়া স্ক্রাবও ব্যবহার করা যেতে পারে।
বডি কেয়ার ও সুগন্ধি
মুখের সাথে সাথে শরীরের যত্ন নেওয়াও জরুরি।
বডি লোশন: গরমে ভারী লোশনের বদলে হালকা বডি মিল্ক বা জেল ব্যবহার করুন।
ডিওডোরেন্ট ও পারফিউম: ঘামের দুর্গন্ধ এড়াতে ভালো মানের রোল-অন বা বডি স্প্রে ব্যবহার করুন। ফ্লোরাল বা সাইট্রাস (লেবু জাতীয়) সুগন্ধি গরমে বেশি সতেজ অনুভূতি দেয়।
ট্যালকম পাউডার: শরীরের যেসব জায়গায় ঘাম বেশি হয়, সেখানে অ্যান্টি-ফাঙ্গাল পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।
গ্রীষ্মকালীন বিশেষ কিছু টিপস
কেবল প্রসাধনী মাখলেই হবে না, জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তন আনা জরুরি:
প্রচুর পানি পান করুন: ভেতর থেকে হাইড্রেটেড থাকতে দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করুন।
পোশাক নির্বাচন: হালকা রঙের সুতির আরামদায়ক পোশাক পরুন।
চোখের যত্ন: রোদ থেকে চোখ বাঁচাতে ভালো মানের সানগ্লাস ব্যবহার করুন।
চুলের যত্ন: ঘামে চুল আঠালো হয়ে যায়, তাই সপ্তাহে ৩ দিন মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল পরিষ্কার রাখুন।
উপসংহার
গ্রীষ্মের প্রসাধনী নির্বাচনের মূল মন্ত্র হওয়া উচিত "হাইড্রেটিং ও লাইটওয়েট"। আপনার ত্বকের ধরন বুঝে সঠিক পণ্যটি বেছে নিন। মনে রাখবেন, দামি প্রসাধনীর চেয়েও নিয়মিত যত্ন এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা আপনার ত্বককে এই গরমেও রাখবে উজ্জ্বল ও লাবণ্যময়ী।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যেকোনো নতুন প্রসাধনী ব্যবহারের আগে 'প্যাচ টেস্ট' করে নিন, যাতে অ্যালার্জি বা র্যাশের ঝুঁকি না থাকে।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url