আয়াতুল কুরসী ও সূরা হাশরের শেষের ৩ আয়াত বাংলা অর্থসহ ফযীলত

আজ এই আর্টিকেলটিতে আয়াতুল কুরসি ও সূরা হাশরের শেষের ৩ আয়াত বাংলা উচ্চারণ ও অর্থসহ আলোচনা করা হলোঃ

  • আয়াতুল কুরসী

বাংলা উচ্চারণঃ আল্লা-হু লা~ ইলা-হা ইল্লা হুও,আল হাইয়ুল ক্বাইয়ূম লা-তা' খুঁজুহূ সিনাতুওঁ ওয়া লা- নাওম; লাহূ মা-ফিস সামা- ওয়া-তি ওয়ামা- ফিল আরদ্ব; মান যাললাযী ইয়াশফা'উ ইন্দাহূ~ ইল্লা বিইযনিহ;। ইয়া'লামু মা- বাইনা আইদীহিম  ওয়ামা- খালফাহুম, ওয়ালা ইয়ুহীত্বনা বিশাইইম মিন ইলমিহী ~ ইল্লা-বিমা-শা ওয়া সি'আ কুরসিইয়ুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব; ওয়ালা-ইয়াঊদুহূ  হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল আলিয়্যুল আয্বীম।


অর্থঃ আল্লাহ ঐ চিরজীবী ও চিরস্থায়ী সত্তা, তিনি ছাড়া আর কোন মা-বুদ নেই। তিনি ঘুমান না, এমনকি তাঁর  ঘুমের ভাবও হয় না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সব তাঁরই। কে আছে যে তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর দরবারে সুপারিশ করতে পারে? যা কিছু বান্দাদের সামনে আছে তাও তিনি জানেন, আর যা তাদের অগোচরে আছে তাও তিনি জানেন। যা কিছু তার জ্ঞানের মধ্যে আছে তা থেকে কিছুই তাদের আয়ত্তে আসতে পারে না। অবশ্য কোন বিষয়ের জ্ঞান যদি তিনি নিজেই কাউকে দিতে চান তাহলে আলাদা কথা। তাঁর শাসন আসমান ও যমীন জুড়ে আছে এবং এসবের দেখাশোনার কাজ তাঁকে ক্লান্ত করতে পারে না। তিনি মহান ও শ্রেষ্ঠতম।


ফযীলতঃ হাদিসে বর্ণিত আছে, যে লোক সকালে ও শয়নের পূর্বে আয়াতুল কুরসি পড়বে, আল্লাহ স্বয়ং তার তত্ত্বাবধানকারী। কাজেই সারা দিনের মধ্যে শয়তান তার নিকট ঘেঁষতে  পারে না । কেননা, আয়াতুল কুরসি পাঠকারীর নিকট শয়তান আগমন করবে না বলে ওয়াদাবদ্ধ রয়েছে।

আরো পড়ুন ঃ সূরা ফাতিহা ও ছোট ১০ টি সূরা সমূহ বাংলা উচ্চারণ অর্সথহ

  • সূরা হাশরের শেষের ৩ আয়াত

বাংলা উচ্চারণঃ হুওয়াল্লা -হুল লাযী লা~ ইলা-হা ইল্লা-হুওয়া, আ-লিমুল গাইবি ওয়াশ শাহা-দাতি, হুওয়ার রাহমা-নুর রাহীম। হুওয়াল্লা-হুল লাযী লা- ইলা-হা ইল্লা হুওয়া, আলমালিকুল কুদ্দুসূস সালা-মুল মু'মিনুল মহাইমিনুল 'আযীযুল। জ্বাব্বা-রুল মুতাকাব্বিরু; সুবহা-নাল্লাহি 'আম্মা- ইউশরিকূন । হুওয়াল্লা-হুল খা-লিকুল বা-রিউল মুস্বাওয়্যিরু ও লাহুল আসমা-উল হুসনা-; ইউসাব্বিহু লাহূ মা-ফিস সামা-ওয়াতি ওয়াল আরদ্বি ওয়া হুওয়াল 'আযীযুল হাকীম।


অর্থঃ তিনিই আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন মা-বুদ নেই। তিনি অদৃশ্য ও দৃশ্যের পরিজ্ঞতা। তিনি দয়াময় পরম দয়ালু। তিনিই আল্লাহ, যিনি ছাড়া কোন মা-বুদ নেই। তিনিই অধিপতি, পবিত্র, শান্তি, নিরাপত্তাদাতা, রক্ষক পরাক্রমশালী, প্রতাপান্বিত মহিমান্বিত। মানুষ তাঁর সাথে যে শিরক করছে তা থেকে আল্লাহ পবিত্র। তিনিই আল্লাহ, যিনি সৃষ্টির পরিকল্পনাকারী, তা বাস্তবায়নকারী ও সে অনুযায়ী রূপদাতা। সব ভাল নাম তাঁরই। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করছে। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।

ফযীলতঃ

 (১) কোন সমস্যা দেখা দিলে পূর্ন একাগ্রতা ও পবিত্রতার সাথে ৪ রাকাত নফল নামাজ আদায় করবে। প্রতি রাখাতে সূরা ফাতিহার পর সূরা হাশর পাঠ করবে। নামাজ শেষে আল্লাহ পাকের দরবারে স্বীয় সমস্যা উল্লেখ করে দোয়া করবে।  ইনশাল্লাহ অতি সত্বর সমস্যার সমাধান হবে।


(২) নবী করীম (সাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি সকালে ৩বার আউযুবিল্লাহিস ছামিয়িল আলিম মিনাশ শাইত্বানির রাজীম পড়বে । পরে সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত ১বার পাঠ করবে আল্লাহ তাঁর জন্য ৭০ হাজার ফেরেশতা নিযুক্ত করে দেন। যারা সন্ধ্যা পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির জন্য ইসতিগফার করতে থাকে, সেদিন যদি তার মৃত্যু হয়, তাহলে সেই ব্যক্তি শহীদি মৃত্যু লাভ করবে।

আল্লাহ হাফেজ***

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url