সূরা মাউন বাংলা উচ্চারণ অর্থ সহ শানে নুযুল ও ফজিলত

আজ এই আর্টিকেলটিতে সূরা মাউন বাংলা উচ্চারণ অর্থ সহ শানে নুযুল ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।

সূরা আল মাউন

বাংলা উচ্চারণ: ১. আরাআইতাল্লাযী ইউকায্যযাবু বিদ্দীন। ২. ফাযালিকাল্লাযী ইয়াদুয়ুল্ ইয়াতীম। ৩. ওয়ালা ইয়াহুদ্দু আলা তাআমিল্ মিসকীন। ৪ ফাওয়াইলুল্লিল্ মুসাল্লীন। ৫. আল্লাযীনা হুম আন সালাতিহিম সাহুন। ৬. আল্লাযীনা হুম ইউরাউন। ৭. ওয়া ইয়ামনাঊনাল্ মাউন।

আরো পড়ুন: সূরা ফীল বাংলা উচ্চারণ অর্থসহ শানে নুযুল ও ফজিলত

অর্থ 

১. তুমি কি তাকে দেখেছ, যে ধর্মকে প্রত্যাখ্যান করেছে? ২. সে তো সে ব্যক্তি, যে অনাথকে তাড়িয়ে দেয়; ৩. এবং সে কখনও অভাবগ্রস্তকে অন্ন দানে উৎসাহ দেয় না। ৪. সুতরাং সে নামাযীদের জন্য আক্ষেপ, ৫. যারা তাদের নামায ব্যাপারে উদাসীন, ৬. যারা লোক দেখানোর জন্য তা পড়ে, ৭. এবং গৃহস্থালীর প্রয়োজনীয় ছোটখাট জিনিস সাহায্য দানে বিরত থাকে।

শানে নুযূল

 মহানবী (সঃ) কাফিরদের সামাজিক অন্যায় আচরণে অত্যন্ত ব্যথিত হয়েছিলেন। তৎকালে গরীব-দুঃখী ও অনাথদের সমাজে কোন ধরনের মর্যাদা ছিল না। তারা সর্বদা নির্যাতিত হত। আর কাফিররা অত্যন্ত কৃপণ ও লোভী প্রকৃতির ছিল। কথিত আছে যে, আবু জাহল কোন ইয়াতীম বালকের সম্পদের তত্ত্বাবধায়ক ছিল। একবার সে ইয়াতীম বস্ত্রহীন ও ক্ষুধার্ত অবস্থায় তার নিকট টাকা চাইলে সে তাকে কর্কশ ভাষায় তাড়িয়ে দেয়। অতপর বালকটি অসহায় অবস্থায় হযরত মুহাম্মদ (সঃ)-এর কাছে তার দুঃখের কাহিনী বর্ণনা করলে তিনি আবু জাহলের কাছে গিয়ে এর প্রতিকারের ব্যবস্থা হিসেবে কিয়ামতের কথা আলোচনা করলে আবু জাহল তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও উপহাস করে তা প্রত্যাখ্যান করে। এতে নবী করিম (সঃ) ভারাক্রান্ত হৃদয়ে ফিরে আসেন। আর একটি ঘটনা যে, একদিন আবু সুফিয়ান গণ্যমান লোকদেরকে খাওয়ানোর জন্য একটি উট জবেহ করে। অতপর সেখানে এক অনাথ বালক উপস্থিত হয়ে তার কাছে কিছু গোশত চায়। এতে আবু সুফিয়ান সে অনাথ বালকের উপর অত্যন্ত রেগে এবং ক্রুদ্ধ হয়ে তার মাথায় লাঠির আঘাত হানে। রাসূল (সঃ) এ ঘটনা শুনে অত্যন্ত দুঃখিত ও মর্মাহত হন। এ সকল ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ সূরা আল-মাউন অবতীর্ণ হয়। মহান আল্লাহ্ তাদের উপর খুবই অসন্তুষ্ট হয়ে রাসূল (সঃ)-কে শান্ত্বনা দেয়ার জন্য এ সূরা অবতীর্ণ করেন।মহান আল্লাহ বলেন, যারা ইয়াতীমদের প্রতি নিষ্ঠুর ব্যবহার করবে, গরিবদের খাওয়াবে না, তারা তো আল্লাহদ্রোহী। তারা তো ভালভাবে নামায আদায় করে না এবং গৃহস্থালী আবশ্যক জিনিসপত্র বা দান-খয়রাত বা যাকাত দেয় না। তারা কৃপণ ও লোভী। তারা যা কিছুই করে সব কিছু নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য করে। অতএব তাদের ধ্বংস অনিবার্য। এহেন দুশ্চরিত্র লোকদের থেকে সব সময় সতর্ক থাকা উচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া উচিত।

আরো পড়ুন: সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত বাংলা উচ্চারণ অর্থ সহ ফজিলত

ফযীলত 

 ১. এ সূরাহ যোহরের নামাযের পর ৪১ বার পাঠ করলে ইনশাআল্লাহ দরিদ্রতা দূর হয় এবং রিযিক বৃদ্ধি পায়। ২. এ সূরাহ পাঠ করে গৃহে ব্যবহার্য সামগ্রীর উপর ফুঁ দিলে আল্লাহর রহমতে সামগ্রী নষ্ট হয় না। ৩. এ সূরাহ নিয়মিত পাঠ করলে গরীব-দুঃখীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া যায় এবং ইয়াতীমদের প্রতিও মায়া-মমতা বৃদ্ধি পায়। ৪. এ সূরাহ নিয়মিত পাঠ করলে নামাযের প্রতি ভক্তি শ্রদ্ধা বাড়ে।


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url