গোসলের ফরজ ও সুন্নত কয়টি কি কি বিস্তারিত পড়ুন

 প্রত্যেক ঈমানদার মুসলমানদের সবসময় শারীরিক পরিচ্ছন্নতার দিকে খেয়াল রাখতে হয়। ওযুর পাশাপাশি তাকে সব সময় সুযোগ ও সুবিধা আবশ্যিকতা অনুপাতে গোসল ও করতে হয়।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) অপবিত্র কে দূর করার জন্য গোসল করার তাগিদ দিয়েছেন। গোসলের তিনটি ফরজ ও ছয়টি সুন্নত রয়েছে। মুমিনরা এগুলো একনিষ্ঠভাবে পালন করেন। যথাযথভাবে এসব ফরজ পালন না করলে- ফরজ গোসল ঠিকমতো হয় না এতে গোসল কারী অপবিত্রই থেকে যায়।



গোসলের ফরজ ৩ টিঃ-

১। গড়গড়া সহ কুলি করা।
২। নাকে পানি দেওয়া।
৩। সারা শরীরে পানি দিয়ে উত্তম রূপে ধৌত করা।

(১) গড়গড়া সহ কুলি করা ঃ গোসলের প্রথম ফরজ হল গড়গরা সহ কুলি করা। মুখের ভিতর অনেক সময় খাবারের উচ্ছিষ্ট জমে থাকে। গলার ভিতরে ও কফ জমে থাকে। তাই ঘরগুলো সব কুলি করলে গলার কফ ও মুখের ভিতর জমে থাকা খাবারের উচ্ছিষ্ট দূর হয়ে যায়।

(রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ফরজ গোসলের অংশ হিসেবে কুলি করেছেন)

(সহিহ বুখারী হাদিস: ২৫৭ ও ২৬৫ সুনানে ইবনে মাযহ হাদিস ৫৬৬)

(২) নাকে পানি দেওয়া ঃ গোসলের আরেকটি ফরজ হলো নাকের ভিতর পানি দেওয়া। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও নাকে পানি দিয়েছেন।

(সহিহ বুখারী হাদিস: ২৬৫ সুনানে ইবনে মাযহ হাদিস ৫৬৬)

(৩) সারা শরীরে পানি দিয়ে উত্তম রূপে ধৌত করাঃ এমনভাবে গোসল করতে হবে যাতে শরীরের কোন অঙ্গ শুকনো না থাকে। এ প্রসঙ্গে একাধিক হাদিস রয়েছে। সেসব হাদিস অনুযায়ী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও যখন গোসল করতেন তখন তার শরীরের সব অংশ ভেজা থাকতো।

(সুনানে ইবনে  দাউদ হাদিস ২১৭

আরো পড়ুন ঃ সেকেন্ডে সেকেন্ডে লক্ষ কোটি নেকী হাসিল করুন 

গোসলের সুন্নত ৬ টিঃ-

১। গোসল শুরুর আগে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম পাঠ করা

২। পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা।

৩। দুই হাতে কজি ওজুর মত তিনবার পরিষ্কার করা।

৪। কাপড় অথবা শরীরের কোথাও অপবিত্র কোনো কিছু থাকলে গোসলের আগে তা পরিষ্কার করা।

৫। গোসলের আগে ওযু করা, গোসলের স্থান নিচু হলে ও পানি জমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলে টাখনুসহ দুই পা পরে পরিষ্কার করা।

৬। ডানদিকে ৩ বার, বামদিকে ৩ বার ও মাথার উপর  ৩ বার পানি প্রবাহিত করা।

আরো পড়ুন ঃ মিনিটে মিনিটে লক্ষ কোটি নেকী হাসিলের দোয়া সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন 

গোসল কখন ফরজ হয়?

৫ টি কারণে গোসল ফরজ হয় কারণ গুলো হলোঃ

১। স্বামী-স্ত্রী সহবাস করলে কিংবা পুরুষের স্বপ্নদোষ হলে।

২। নারীদের ঋতুস্রাব অথবা পিরিয়ড হলে।

৩। সন্তান প্রসবের পর রক্তপাত বন্ধ হলে।

৪। মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়া জীবিতদের জন্য।

৫। কোন অমুসলিম ইসলাম গ্রহণ করলে।

গোসল কখন সুন্নত হয়?

 ৪ টি কারণে গোসল সুন্নত হয়  কারণ গুলো হলোঃ 

১। জুমার নামাজের আগে গোসল করা সুন্নত।

২। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার নামাজের আগে গোসল করা সুন্নত।

৩। ইহরামের জন্য গোসল করা সুন্নত।

৪। হাজীদের আরাফাই অবস্থানের সময় গোসল করা সুন্নত।

ধন্যবাদ***

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url