ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের মজার গল্প যদু মাস্টার

  আজ এই আর্টিকেলটিতে ছোট ছোট শিশুদের মজার গল্প যদু মাস্টার গল্পটি তুলে ধরা হলো


যদু মাস্টার

যখনকার কথা বলছি তখন এদেশে এত স্কুল হয়নি। এখনকার মত এত ছেলে মেয়েও স্কুলে পড়তো না। দু-চার গাও পরে স্কুল তাও খাল পেরিয়ে মাঠ পেরিয়ে কখনো বা নদী পেরিয়েও যেতে হয়। স্কুল ছিল তেমনি, কোথাও ছনের চালা তার বেড়া নেই। কোনোটা আবার গাছের নিচে ঘর নেই। ভূঁইয়া বাড়ির খালের পাড়ে বড় বটগাছ। গরমের দিনে দুপুরবেলায় সবাই গাছের নিচে বসে। বটের ছায়ায় বিশ্রাম নেই। যদু মাস্টার এখানে দশ থেকে বারো জন ছেলেমেয়ে নিয়ে পড়ায় । ওপরে খরের একটা চালা। বসারও তেমন ব্যবস্থা নাই। শুধু কয়েকটা ছেঁড়া চট ছাড়া। এটাকে সবাই বলে যদু মাস্টারের স্কুল।


ছাত্ররা বেতন দেয় না ঠিকমতো আসেও না তবুও মাস্টারের স্কুল খোলা চাই। মাঝে মাঝে যদু মাস্টারের বউ রেগে যায়। বলে কি লাভ ছাত্র পড়িয়ে জমিতে কাজ করলেও তো সংসারের উন্নতি হয়। যদু হাসে বলে কাউকে কিছু শেখানোর যে কত আনন্দ তা তুমি বুঝবে না।

দুপুরে ছাত্ররা পড়ে চলে যায়। যদু ভাবে সামনে বর্ষা। খড়ের চালায় কুলাবে না। ভেঙে যাবে তখন কি করবে এই ভাঙা ঘরে পড়তে আসবে কারা।

 ফজল চাচা একদিন মাস্টারকে ডেকে বললেন, যদু বসে বসে ভেবে লাভ নেই। এ গায়ে তোমার স্কুলের চালা ঠিক করার জন্য টাকা দেওয়ার সামর্থ্য কারো নেই। যদু বলে চাচা  শুধু কি চালা ছাত্রদের তো বই ও নেই। এত টাকা পায় কোথায় পাই । বই না হলে পড়বে কি? সজল চাচা বলে শোনো ৩ গ্রাম দূরে পিরহাটির জঙ্গল পেরিয়ে মাধবপুরের জমিদার আমির খার বাড়ি। বড় ভালো মানুষ। গেলে কিছু পেতে পারো। 

পরদিন সকাল-সকাল চারটে ভাত খেয়ে একটা লাঠির মাথায় পোটলা বেঁধে রওনা দেয় যদু পথ তো কম নয় পায়ে হেঁটে যেতে হবে। সন্ধ্যার আগে পার হতে হবে পীরহাটির জঙ্গল বলা তো যায় না এদিকে নাকি খগা ডাকতের আস্তানা। ওর হাতে পড়লে তো আর রক্ষে নেই। জীবন ও যেতে পারে। যে


পশ্চিম আকাশে মেঘ জমেছে বাতাস বইতে লাগলো । পা চালালো মধু। শুরু হলো ঝড় এই বনের মধ্যে কোথায় আশ্রয় পাবে। চারিদিকে শুকনো ডাল বাতাসে মট মট করে ভাঙছে। দৌড়াতে দৌড়াতে দেখে সামনে একটা ভাঙ্গা বাড়ি। যদু ছুটতে ছুটতে ভাঙ্গা দালানে আশ্রয় নেয়। ঢুকে পড়ে তার মধ্যে। কিন্তু ঝড় তো থামেনা। সাথে বৃষ্টি। ভাঙ্গা বাড়ি ঘরের এক কোণে বসে পড়ল চুপচাপ। দরজা জানালা সব ভাঙ্গা। বৃষ্টির ছাট এসে গায়ে লাগছে।

 বোধ হয় ঘুম এসে গিয়েছিল ।লাঠির গায়ে জেগে দেখে মশাল হাতে দাঁড়িয়ে একজন। ভয় পেল যদু মাস্টার। বুঝলো আর রক্ষা নেই। ডাকাতের হাতে পড়েছে।

 চল ওস্তাদের কাছে। সাহস তো কম না। চামচিকের মতো চেহারা। এসেছিস খগা ডাকাতের আস্তানায়। বলল লোকটা।

 যদিও লাঠি আর পটলাটা কাঁধে নিয়ে চলল সাথে। বাড়িটা ভাঙ্গা হলেও অনেক বড়। অনেকগুলো ঘর।  দেখে ঘরের মাঝখানে খরের গদি পাতা। তার উপর বসে আছে বিশাল চেহারার এক লোক। ওর পাশে আরো তিন চার জন। যদুর বুঝতে বাকি রইল না। এ কে।

 খগার আস্তানায় ঢোকার সাহস কোথায় পেলি ।
জিজ্ঞেস করল খগা ডাকাত। যদু কাঁপছে। একজন বলল সরদার ওর পোটলা দেখি। এ বেটা নিশ্চয়ই পুলিশের চর। একজন পটল টা খুলল দেখে বলল সরদার এতে আছে একটা লুঙ্গি গামছা আর চারটে চইড়আ গুর।

  খগা বলল এই বল তুই কে কি করিস কোথায় যাচ্ছিস। এখানে এলি কেন। যদু কাঁদতে কাঁদতে সব কথা বলল। খগা ডাকাতের বোধ হয় দয়া হল।  একজনকে ডেকে বলল। এই বুধো, একে খেতে দে। সবাই গোল হয়ে খেতে বসল মাঝে খগা ডাকাত বন মুরগির মাংস আর ভাত খেতে খেতে খোকা বলল দেখো মাস্টার তোমার কথা শুনে আমার খুব ভালো লাগলো তোমার কথা যদি সত্যি হয় তবে তোমার বিপদ নেই কিন্তু মিথ্যে হলে রক্ষাও নেই। খগা রাস্তা নাই ঢোকার শাস্তি তুমি পাবে আর শোনো, আমি খা খুব কৃপণ লোক তোমাকে কিছু দেবে না স্কুলের চালা তৈরি ছাত্র-ছাত্রীদের বই কেনার সাহায্য ওর কাছে পাবে না। যদি বলল আমাকে দয়া করে ছেড়ে দিন আমি না গেলে ভাঙ্গা স্কুলটিও চলবে না ও গায়ে আর কেউ পড়ালেখা করবে না আমি অন্য উপায় দেখি। আগে পেট ভরে খাও অন্য উপায় দেখতে হবেনা গম্ভীর গলায় খগা বলল। তারপর দুজনকে দেখিয়ে বলল কাল সকালে কাটোয়ার পেঁচা যাবে তোমার সাথে যদি তোমার স্কুল ছাত্র ছাত্রী পড়ানো সব কথা ঠিক থাকে তবে তোমাকে ওরা সাহায্য করবে। আর যদি মিথ্যা হয় ওই ভূইয়া বাড়ির খালের পানিতে তোমাকে ডুবিয়ে দেবো। কথাগুলো বলে খগা ডাকাত কাটোয়ার প্যাথাকে প্যাঁচার দিকে তাকালো বলল কাঠু কাটুক পেঁচা তোরা বড় মোষের গাড়িতে মাস্টারের স্কুল ঘরের জন্য ঘর নিবি আর এই নিয়ে কিছু টাকা মাস্টার এখন ঘুমাতে যাও এখন আমি চলি এই কথা বলে খোকা অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। ভাঙ্গা বাড়ির মধ্যে কাঠুরে আর পেঁচা ডাকাতের মাঝখানে ঘরের বিছানায় শুয়ে যদি চিন্তা করতে লাল লাগলো এ কি হয় এটা কি সত্যি ফগা ডাকাতের টাকায় হবে তার স্কুল ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল যদু।

পরদিন বিকেলে কাঠ ও পেঁচা কে সাথে নিয়ে যদু এলো ওর ইস্কুলের কাছে মোষের গাড়ি থেকে নেমে এই কাটুন বললো তবে কাজ শুরু করি মাস্টার যদি বললো একটু বিশ্রাম নাও আমাদের আবার বিশ্রাম বললো কাটো তোমার বাঁশঝাড় দেখাও বাঁশ খেতে আনি। যেহেতু সবকিছু জোগাড় করতে লাগলো পরদিন সকাল থেকে শুরু হলো পুরো কাজ।। খবর পেয়ে যদুর ছাত্রছাত্রীরাও এলো যদি ভাবে এই কাটুক পেঁচা কত কাজে না জানে অথচ এরা ডাকাতি করে। এসে স্কুলের কাজ দেখে এক গাল হেসে বলল বলিনি মাস্টার আমির কত ভালো লোক তোমার স্কুল ভর করে দেবে যদি চুপ করে থাকে স্কুল ঘরে ঘরে ছাউনি হল কাটুন বাজার থেকে চট কিনে এনে ছেলেমেয়েদের বসার ব্যবস্থা করল নতুন ঘর আর বসার জায়গা হওয়ায় নতুন ছেলে মেয়ে স্কুলে আসতে লাগলো। যদুর মনে এখন আনন্দ বৃষ্টিবাদলায় ওর স্কুল আর নষ্ট হবে না কাজ শেষ কাটো ও পেঁচা চলে যাবে যদি বলল এসো মাঝে মাঝে তোমার ওস্তাদকে এদিকে আসতে বল। পাটু পেঁচা ফিরে চলল ওদের বোদার গাতি গ্রামে যেতে যেতে পেঁচা বলল কার্টুন দেখো যদু মাস্টার কত ভালো কাজ করছে কত ছেলে মেয়ে ওর কাছে পড়ালেখার শেখে আমাদেরও তো ছেলে মেয়ে আছে চল না ওদের স্কুলে ভর্তি করি। আর আমরাও ডাকাতি ছেড়ে দেই জমি যা আছে কাজ করলেই অভাব হবে না ওস্তাদ কেউ বলি কথাটা।

দিনে দিনে যদি স্কুলের নাম ছড়িয়ে পড়ল চারিদিকে এখন অনেক ছেলে মেয়ে একদিন বিকেল বেলা স্কুলের বারান্দায় বসে ভাবছে যদি কত জনের কাছে টাকা চাইলাম কেউ দিল না দিল এক ঢাকা ইস ওরা যদি ভালো হতো সামনে বলল। মাস্টার আমরা ভালো হয়ে গেছি আর ডাকাতি করি না তোমাকে দেখে বুঝতে পেরেছি ডাকাতি করা ভালো নয় এখন চাষাবাদ করি সরদারও চাষাবাদ করে সরদার বলেছে তার ছেলে মেয়ে বড় হল তোমার এখানে পাঠাবে ওরা পড়ালেখা শিখবে। মাস্টার কাউকে বলনি তো আমরা ডাকাত যদি হেসে বলল না পেঁচা কাউকে বলিনি কিন্তু এখন তো তোমরা ভালো মানুষ জোদু মাস্টারের স্কুল এখন জমজমাট কোন বাড়িতে ছোট্ট ছেলে মেয়ে জন্ম নিলে ফজল চাচা সেখানে হাজির হয় স্কুলে পাঠাবে কিন্ত।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url