সোনামনিদের মজার গল্প কাক ও ঘুঘু

কাক ও ঘুঘু 

পাখিদের মেলা কি। বিরাট আয়োজন! সেখানে গান হবে, বাজনা হবে, নাচ হবে। খাওয়া-দাওয়া হবে। সে এক এলাহি কান্ড। ভিন্ন দেশের পাখিরা ও নাকি আসবে । বাজপাখি দেখবে কেউ যেন গোলমাল না করে। সে মেলার চারিদিকে উড়িয়ে বেড়াবে। সাথে থাকবে লম্বা ঠোঁট  ওয়ালা পাখিদের বড় একদল। বক হারগিলা আর মদন টাক। 



চারিদিকে সাজ সাজ রব। দুটো গ্রাম তিনটে নদী পেরিয়ে তেপান্তরের মাঠ ছাড়িয়ে সোনাডাঙ্গার হাট। সেখানে মেলা । কেউ কেউ রওনা দিয়েছে, কেউ কেউ রওনা দেবে। মা টুনটুনি, কাকাতুয়া, কোকিল শ্যামা এরা নাচ গানের দল নিয়ে চলে গেছে আগেই। দূরত্ব তো কম নয়।

হরীতকী  বনে পাখি নেই বললে চলে। যাদের শরীর খারাপ,  উরতে পারে না কিংবা ঘরে ছোট বাচ্চা, কেবল তারাই এই মেলায় যায়নি। বড়ই গাছের কোটরে মা ঘুঘু তার বাচ্চাকে নিয়ে থাকে। মা ঘুঘুর শরীরটা আজ ভালো নেই। বাচ্চাটিও ছোট যদিও এর মধ্যে উড়তে শিখেছে বেশ। বায়না ধরেছে, সেও মেলায় যাবে। মা-ঘুঘু যেতে দেবে না।

আরো পড়ুনঃ ছোট্ট  ছোট্ট শিশুদের মজার গল্প যদু মাস্টার

বলে, বাছা, তুমি ছোট। অত দূরে যেতে পারবে না। আর আজকাল পথঘাট ও ভালো না। ময়না, শালিক, বনটিয়া সবাই যাওয়ার সময় ছানাটিকে নিয়ে যেতে চাইল। কিন্তু মা যেতে দেবে না । তার এক কথা, ওর তো এখনও বুদ্ধি হয়নি। ও যাবে কি করে?  কমলা-বউ, বউ-কথা -কও, বুলবুলি মুনিয়া, মৌটুসি ফিঙে দল বেধে যাচ্ছে। এসব দেখে ছোট্ট ছানাটির সে কি কান্না।

সবাই প্রায় চলে গেছে। রয়েছে শুধু দাঁড়কাক । সে গিয়েছিল গোসল করতে। এসে দেখে কেউ নেই একা একা উড়ে যাওয়ার সময় ঘুঘু ছানার কান্না শুনে কাছে এল। সব শুনে বলল, কোন ভয় নেই আমি নিয়ে যাব তোমাকে। কী আর করা? ছানার কান্নায়  মা'র মন ততক্ষণে নরম হয়ে গেছে। বলল, সাবধানে যেও। কাক বলল, অত ভেব না । তোমার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে যাব। মা -ঘুঘু মন খারাপ করে ছানাটিকে বিদায় দিল।


দাঁড়কাক আর ঘুঘু ছানা উড়ে চলেছে। যেতে যেতে প্রায় দুপুর হয়ে গেল। কী গনগনে রোদ! পিপাসায় বুক ফেটে যায়। ছানা ঘুঘুটি বলল, আর তো পারি না,  কাক ভাই। কাক বলল, আমারও খুব পিপাসা পেয়েছে । কিন্তু আশেপাশে কোথাও তো পানি দেখছি না। চলো মাঠের পারে বটগাছে গিয়ে বসি। ওরা মাঠ পেরিয়ে বট গাছের ডালে গিয়ে বসল।

আরো পড়ুনঃ শিশুদের ছোট ছোট ২০টি ছড়ার মেলা 

গাছের নিচে তাকিয়ে কাক দেখে এক দইওয়ালা। দুপুরের রোদে ক্লান্ত হয়ে গাছে হেলান দিয়ে ঢুলছে । কাক বলল, চল, এই ফাঁকে একটু দই খেয়ে গলা ভিজিয়ে নিই। ছানা ঘুঘুটি বলল, না ভাই। না বলে কারো জিনিস খেতে নেই।  কিন্তু কাক জেদ করে ঘুঘুকে নিয়ে  দই খেতে লাগল।

এদিকে ওই পথ দিয়ে যা চলে পথিক।

 সে বলল, গোয়ালা ভাই তোমার দই তো পাখিতে খেয়ে শেষ করে দিল। গোয়ালা টের পেয়ে উঠতে কাক গেল উড়ে। ছোট ঘুঘু উপরে উঠতেই গোয়ালা ছুঁড়লো একটা ঢিল। লাগল গিয়ে ছানা ঘুঘুটির পায়ে। মাথায় লাগলে ঘুঘু ছানাটি মরে যেত । সে কোন রকমে গাছের ডালে উঠে পাতার আড়ালে লুকালো। পায়ে কী ব্যাথা! ব্যাথায় ঘুঘুর জ্বর চলে এল। সে ঘুমিয়ে পরলো গাছের ডালে। এদিকে ওকে ফেলে কাক যে কোথায় চলে গেল।

পরদিন সকালে কোন রকমে উঢ়তে উড়তে ঘুঘু ছানা বাড়িতে এসে পৌঁছালো। মা-ঘুঘু বলল, 'সোনামনি' এই  কী দশা তোমার। মেলায় যাওনি? ছানা ঘুঘু কাঁদতে কাঁদতে সব কথা বলল। মা শুনে বলল, 'বাছা, কত করে  বললাম, আমার কথা শুনলে না। বড়দের কথা না শুনলে কত বিপদ হতে পারে,  দেখলে তো? ছানাটি বলল, এখন থেকে তুমি যা বলবে, সব কথা শুনব, মা।

ধন্যবাদ**

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url