পরকীয়ায় জড়ানোর আগে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য আমার এই লেখাটি
পরকীয়ায় জড়ানোর আগে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য আমার এই লেখাটি পড়ুন।
নিজের স্ত্রী বা স্বামীকে রেখে যারা অন্যের স্ত্রী বা স্বামীর সঙ্গে নিজের দুঃখ, কষ্ট, অভিমান, আনন্দ—সবকিছু ভাগাভাগি করতে শুরু করেন, তাদের একটা বিষয় আগে বোঝা দরকার।
অনেকদিন একসঙ্গে থাকতে থাকতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়, রাগ হয়, অভিমান হয়, ছোট ছোট আঘাত জমে থাকে। অনেক সময় সেই অভিমান ভাঙানো হয় না, ভুল বোঝাবুঝির সমাধান করা হয় না, “সরি” বলা হয় না। ধীরে ধীরে সেই ছোট ক্ষতগুলোই বড় হয়ে যায়। একসময় নিজের মানুষটার প্রতি বিরক্তি তৈরি হয়, তার সঙ্গে কথা বলতে ইচ্ছা করে না, ভালোবাসা প্রকাশ করতেও ইচ্ছা করে না।
ঠিক সেই সময় বাইরে অন্য কারও কোনো সুন্দর আচরণ, সুন্দর কথা কিংবা যত্ন আপনার কাছে খুব ভালো লাগতে শুরু করে। মনে হয়—“এই মানুষটা আমাকে বোঝে, আমাকে গুরুত্ব দেয়, আমার কথা শোনে।”
আরো পড়ুন: থাইরয়েডের কারণে নারীদের গর্ভধারণের জন্য কি কি সমস্যা হতে পারে
কিন্তু একটা সত্য আমরা খুব সহজেই ভুলে যাই—
বাইরের একজন মানুষ আমাদের কাছে যতটা ভালো, সেটা তার সম্পূর্ণ রূপ নয়।
আপনি তার সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা থাকেন না। তার রাগ দেখেন না, তার অভ্যাস দেখেন না, তার দুর্বলতা দেখেন না, তার সংসারের আচরণ দেখেন না। অথচ নিজের ঘরের মানুষটির সঙ্গে আমরা আমাদের সবচেয়ে বাস্তব রূপটা দেখাই।
আমরা কি বাইরের সবার সঙ্গে সবসময় রাগ করে কথা বলি? না।
আমরা কি বাইরের সবার সঙ্গে আমাদের খারাপ ব্যবহার দেখাই? না।
কারণ বাইরের মানুষ আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের সাক্ষী নয়।
কিন্তু ঘরের মানুষ আমাদের ভালো-মন্দ, রাগ-অভিমান, দুর্বলতা—সবকিছুই দেখে। তাই একজন মানুষ আসলে কেমন, সেটা তার সবচেয়ে কাছের মানুষটিই অনেক বেশি জানে।
যার স্বামীকে আপনার খুব ভালো লাগছে, একদিন তার স্ত্রীকে গিয়ে জিজ্ঞেস করুন—তার স্বামীর দোষগুলো সে আপনাকে বলতে পারবে।
যার স্ত্রীকে আপনার অসাধারণ মনে হচ্ছে, তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করুন—সেও তার স্ত্রীর অনেক অজানা দিক আপনাকে বলতে পারবে।
কারণ বাইরের মানুষকে দেখে আমরা তার ভালো দিকটাই বেশি দেখি, কিন্তু ঘরের মানুষ তার সম্পূর্ণ মানুষটাকে দেখে।
তাই অন্য কাউকে ভালো লাগার আগে, কারও প্রতি আকৃষ্ট হওয়ার আগে, কারও পেছনে ঘোরার আগে অন্তত একবার নিজেকে প্রশ্ন করুন—
আরো পড়ুন: শরীরে রক্ত বৃদ্ধির জন্য কি কি ধরনের খাবার খাওয়া উচিত
“আমি কি সত্যিই এই মানুষটাকে চিনি, নাকি আমি শুধু তার বাইরের সুন্দর আচরণটাই দেখছি?”
মনে রাখবেন, তার পার্টনারের চেয়ে আপনি তাকে বেশি চেনেন না।
তাই নিজের মানুষটার ছোট ছোট আঘাতগুলোকে অবহেলা করবেন না। অভিমান জমতে দেবেন না। ভুল হলে “সরি” বলুন। কথা বলুন। যত্ন করুন। সম্পর্কের ভেতরে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, সেটা অন্য কাউকে দিয়ে পূরণ করার আগে নিজের সম্পর্কটাকে একবার বাঁচানোর চেষ্টা করুন।
কারণ পরের মানুষ যত সুন্দরই হোক, যত ভালোই মনে হোক—সেটা হয়তো শুধু বাইরে থেকে দেখা ভালো লাগা।
সংসারের ভেতরে ঢুকলে তারও রাগ আছে, অভিমান আছে, ভুল আছে, সীমাবদ্ধতা আছে।
এই কারণেই অনেক মানুষ বিয়ের পর অন্য কারও প্রেমে পড়ে, মনে করে—“এই মানুষটাই হয়তো আমার জন্য ঠিক।” তারপর সম্পর্ক ভেঙে নতুন সম্পর্কে যায়, বিয়ে করে। কিছুদিন পর আবার সেই একই সমস্যা সামনে আসে। তখন মনে হয়—
“আমার আগের স্ত্রী/স্বামীই হয়তো ভালো ছিল।”
কারণ সমস্যা সবসময় মানুষ বদলালে শেষ হয় না।
অনেক সময় সমস্যার একটা অংশ আমাদের নিজেদের মধ্যেও থাকে।
তাই অন্য কারও জীবনের বাইরের সুন্দর অংশ দেখে নিজের ঘরের মানুষটাকে ছোট করবেন না। নিজের সম্পর্কের ক্ষতগুলো আগে সারানোর চেষ্টা করুন।
হয়তো যাকে আপনি বাইরে খুঁজছেন, তার অনেকটাই আপনার ঘরেই আছে—শুধু অভিমান, অবহেলা আর না-বলা কথার নিচে চাপা পড়ে আছে।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url