বিটফল বা বিটরুটের স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু বিটরুট কাটলেট রেসিপি

বিটরুট বা বিটফল দিয়ে তৈরি করা যায় এমন অনেক স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু খাবারের মধ্যে 'বিটরুট টিক্কি বা কাটলেট' এবং 'বিটরুট ডিটক্স স্মুদি' বর্তমানে সবথেকে জনপ্রিয়। নিচে বিটরুট ব্যবহার করে একটি চমৎকার পূর্ণাঙ্গ রেসিপি এবং এর রন্ধনশৈলী নিয়ে একটি বিস্তারিত আর্টিকেল দেওয়া হলো।

​বিটরুট ম্যাজিক: স্বাস্থ্যকর ও সুস্বাদু বিটরুট কাটলেট রেসিপি

​রান্নাঘরে রাখা সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়ে যখন অসাধারণ কোনো খাবার তৈরি হয়, তখন তাকেই বলা হয় রন্ধনশিল্প। বিটরুট বা বিটফল তার উজ্জ্বল লাল রঙের কারণে খাবারের টেবিলে আভিজাত্য নিয়ে আসে। এটি কেবল চোখের তৃপ্তিই নয়, শরীরের জন্যও মহৌষধি। আজকের আর্টিকেলে আমরা শিখবো কীভাবে খুব সহজে ঘরে বসে তৈরি করা যায় 'ক্রিস্পি বিটরুট কাটলেট'। এটি বিকেলের নাস্তা বা মেহমানদারিতে একদম উপযুক্ত।

​১. উপকরণসমূহ (Ingredients)

​এই রেসিপিটি ৪-৫ জনের পরিবেশনের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে।

​প্রধান উপকরণ:

  • গ্রেট করা বিটফল: ২ কাপ (খোসা ছাড়িয়ে মিহি করে কোড়ানো)
  • সিদ্ধ আলু: ২ টি মাঝারি সাইজ (ম্যাশ করা)
  • গাজর কুচি: ১/২ কাপ (ঐচ্ছিক, স্বাদের ভিন্নতার জন্য)
  • কাঁচামরিচ কুচি: ৩-৪ টি (ঝাল অনুযায়ী)
  • আদা-রসুন বাটা: ১ টেবিল চামচ
  • পেঁয়াজ কুচি: ১/২ কাপ

​মসলাপাতি:

  • ভাজা জিরার গুঁড়া: ১ চা চামচ
  • গরম মসলা গুঁড়া: ১/২ চা চামচ
  • চাট মসলা: ১ চা চামচ (স্বাদ বাড়াতে)
  • লবণ: স্বাদমতো
  • গোলমরিচ গুঁড়া: ১/২ চা চামচ

​বাইন্ডিং ও কোটিংয়ের জন্য:

  • ব্রেড ক্রাম্বস বা বিস্কুটের গুঁড়া: ১ কাপ
  • কর্নফ্লাওয়ার: ২ টেবিল চামচ
  • চালের গুঁড়া: ২ টেবিল চামচ (মুচমুচে করার জন্য)
  • তেল: ভাজার জন্য পরিমাণমতো

​২. প্রস্তুতি ও ধাপসমূহ (Step-by-Step Method)

​ধাপ ১: বিট ও সবজি প্রস্তুত করা

​প্রথমে তাজা বিটফলগুলো ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে নিন। এরপর একটি গ্রেটার দিয়ে বিটগুলো মিহি করে কুচি করে নিন। বিটে অনেক পানি থাকে, তাই হাত দিয়ে চিপে অতিরিক্ত রস বের করে নিতে পারেন (এই রসটি পরে জুস হিসেবে খেয়ে নিতে পারেন)। আলুগুলো সেদ্ধ করে ভালো করে চটকে নিন যেন কোনো দানা না থাকে।

​ধাপ ২: কাই বা মিশ্রণ তৈরি

​একটি বড় পাত্রে গ্রেট করা বিট, ম্যাশ করা আলু, গাজর কুচি এবং পেঁয়াজ-মরিচ কুচি নিন। এতে আদা-রসুন বাটা এবং সমস্ত শুকনা মসলা (জিরা গুঁড়া, গরম মসলা, চাট মসলা, লবণ ও গোলমরিচ) দিয়ে দিন। এবার মিশ্রণটিকে শক্ত করতে ২ টেবিল চামচ চালের গুঁড়া বা ব্রেড ক্রাম্বস মিশিয়ে খুব ভালো করে মাখুন।

​ধাপ ৩: কাটলেটের আকার দেওয়া

​হাতে সামান্য তেল মেখে নিন। এবার মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প অংশ নিয়ে গোল বা চ্যাপ্টা কাটলেটের আকার দিন। খেয়াল রাখবেন যেন কাটলেটগুলো খুব বেশি মোটা না হয়, নতুবা ভেতরটা কাঁচা থেকে যেতে পারে।

​ধাপ ৪: কোটিং বা আবরণ তৈরি

​একটি ছোট বাটিতে কর্নফ্লাওয়ার সামান্য পানি দিয়ে গুলে পাতলা ব্যাটার তৈরি করুন। অন্য একটি প্লেটে ব্রেড ক্রাম্বস ছড়িয়ে দিন। এবার প্রতিটি কাটলেট প্রথমে কর্নফ্লাওয়ারের গোলার ডুবিয়ে তারপর ব্রেড ক্রাম্বসে গড়িয়ে নিন। এতে ভাজার পর কাটলেটগুলো অনেক বেশি মুচমুচে হবে।

​ধাপ ৫: ভাজার প্রক্রিয়া (Frying)

​চুলায় প্যান বসিয়ে তাতে ডুবো তেল অথবা সামান্য তেল (Shallow fry) গরম করুন। তেল গরম হলে মাঝারি আঁচে কাটলেটগুলো ছেড়ে দিন। একপাশ গাঢ় বাদামী বা খয়েরি রঙের হয়ে এলে উল্টে দিন। দুই পিঠ সমানভাবে ভাজা হয়ে গেলে কিচেন টিস্যুর ওপর তুলে রাখুন যেন বাড়তি তেল শুষে নেয়।

​৩. পরিবেশনার আইডিয়া (Serving Suggestions)

​বিটরুট কাটলেটের আসল মজা পাওয়া যায় গরম গরম পরিবেশন করলে।

  • পুদিনা চাটনি: দই ও পুদিনার টক-ঝাল চাটনি দিয়ে এটি খেতে দারুণ লাগে।
  • টমেটো কেচাপ: বাচ্চাদের জন্য সস বা কেচাপ হতে পারে সেরা অনুষঙ্গ।
  • সালাদ: শসা, পেঁয়াজ ও গাজরের স্লাইসের সাথে সাজিয়ে পরিবেশন করলে দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় লাগে।

​৪. রান্নার কিছু বিশেষ টিপস (Chef's Tips)

​১. পানি নিয়ন্ত্রণ: বিটফল থেকে যদি অতিরিক্ত পানি না বের করা হয়, তবে কাটলেট নরম হয়ে ভেঙে যেতে পারে। তাই বিট চিপে নেওয়া জরুরি।

২. হিমায়িত করা: আপনি চাইলে কাটলেটগুলো কোটিং করার পর একটি এয়ারটাইট বক্সে ভরে ডিপ ফ্রিজে ৭-১০ দিন সংরক্ষণ করতে পারেন। মেহমান আসলে শুধু বের করে ভেজে নিলেই হবে।

৩. স্বাস্থ্যসম্মত বিকল্প: যারা তেল এড়াতে চান, তারা কাটলেটগুলো এয়ার ফ্রায়ারে (Air Fryer) বা ওভেনে ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ১৫-২০ মিনিট বেক করে নিতে পারেন।

​৫. বিটরুট রেসিপিটি কেন অনন্য?

​রান্নায় বিটফলের ব্যবহার কেবল স্বাদই বাড়ায় না, বরং এটি খাবারের পুষ্টিগুণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যেখানে সাধারণ আলুর চপ বা কাটলেটে শুধু কার্বোহাইড্রেট থাকে, সেখানে বিটরুট কাটলেটে থাকে আয়রন, ফাইবার এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট। যারা সবজি খেতে পছন্দ করে না, বিশেষ করে শিশুরা, তাদের জন্য এটি বিটফল খাওয়ানোর একটি চমৎকার উপায়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url