আরাফাতের দিনের দোয়া সমূহ
তিরমিযী শরিফে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, সর্বোত্তম দোয়া আরাফাতের দিনের দোয়া এবং সর্বোত্তম দোয়া যা আমি ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণ করেছেন তা হল।
"আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি অদ্বিতীয়। তাঁর কোন অংশীদার নেই। সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই এবং তাঁরই জন্য সমস্ত প্রশংসা। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।”
মোল্লা আলি ক্বারী- (রহ.) কৃত 'মানাসিক' গ্রন্থে তাবরানী সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরাফাতের ময়দানে যেসব দোয়া করতেন, তাতে নিম্নোক্ত দোয়াটিও ছিল।
আরো পড়ুন: ত্বক ফর্সা বা উজ্জ্বল করার ঘরোয়া উপায় সমুহ
"হে আল্লাহ! নিশ্চয় তুমি আমার অবস্থানক্ষেত্র দেখছ, আমার কথা শুনছ। আমার গোপন ও প্রকাশ্য সবকিছু তুমি জান, এবং আমার কোন কিছু তোমার কাছে অজানা নয়। আমি দুর্দশাগ্রস্ত, মুখাপেক্ষী, ফরিয়াদকারী, আশ্রয়প্রার্থী, ভীত-শংকিত ও নিজ অপরাধের স্বীকারোক্তিকারী। আমি অসহায়ের ন্যায় তোমার নিকট প্রার্থনা করছি এবং নিকৃষ্ট পাপীর ন্যায় তোমার দরবারে আকুল হয়ে কাঁদছি। ভীত-শংকিত ও বিপন্নের ন্যায় তোমাকে আমি ডাকছি- সেই ব্যক্তির ন্যায় যার মাথা তোমার সামনে অবনমিত হয়, যার চোখ তোমার জন্য অশ্রু বিগলিত হয়, যার দেহ তোমার জন্য শীর্ণ হয়. এবং যার নাক তোমার জন্য ধুলোমলিন হয়। হে আল্লাহ! হে আমার প্রতিপালক! তুমি আমাকে বঞ্চিত করো না। আমার প্রতি তুমি পরম দয়ালু ও দয়াময় হয়ে যাও। হে শ্রেষ্ঠ প্রার্থনাস্থল! হে শ্রেষ্ঠ দাতা।
ইমাম বায়হাকী 'শু'আবুল ঈমান'-এ হযরত জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু সূত্রে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আরাফাতের দিন সূর্য ঢলে যাওয়ার পর আরাফাতের ময়দানে কেবলামুখী হয়ে একশ'বার নিম্নোক্ত দোয়া পড়বে
অতঃপর একশ'বার সম্পূর্ণ সূরা ইখলাস( অতঃপর একশ'বার নিম্নোক্ত দুরূদ শরিফ পড়বে।
তার সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন, হে আমার ফেরেশতাগণ। আমার এ বান্দার কী পুরস্কার হবে? সে আমার তাসবীহ ও তাহলীল পাঠ করেছে, আমার বড়ত্ব ও মহত্ত্ব বর্ণনা করেছে, আমার মা'রিফাত অর্জন করেছে, আমার শান বর্ণনা করেছে এবং আমার নবীর প্রতি দুরূদ পাঠ করেছে। হে আমার ফেরেশতাগণ! তোমরা সাক্ষী থাক! আমি তাকে ক্ষমা করে দিলাম এবং তার নিজের ব্যাপারে তার সুপারিশ গ্রহণ করলাম। যদি আমার বান্দা আমার নিকট আরাফাতের ময়দানে অবস্থানকারী সমস্ত মানুষের জন্য সুপারিশ করে, তাহলে আমি সকলের ব্যাপারে তার সুপারিশ গ্রহণ করব। (শুনিয়াতুন নাসিক)
হযরত আলী রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, আরাফাতের ময়দানে আমার ও আমার পূর্ববর্তী নবীগণের অধিখাংশ দোয়া নিম্নরূপ :
"আল্লাহ ব্যতীত কোন ইলাহ নেই। তিনি অদ্বিতীয়। তাঁর কোন অংশীদার নেই। সার্বভৌম ক্ষমতা তাঁরই এবং তাঁরই জন্য সমস্ত প্রশংসা। তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান। হে আল্লাহ! আমার অন্ত রে নূর দান কর, আমার শ্রবণ শক্তিতে নূর দান কর এবং আমার দৃষ্টি শক্তিতে নূর দান কর। হে আল্লাহ! আমার অন্তরকে তুমি উন্মোচিত করে দাও। আমার কাজ তুমি সহজ করে দাও। আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি নফসের কুমন্ত্রণা থেকে, কাজের বিশৃংখলা থেকে এবং কবরের ফিতনা থেকে। হে আল্লাহ! আমি তোমার আশ্রয় প্রার্থনা করছি রাতে যা আসে তার অনিষ্ট থেকে, দিনে যা আসে তার অনিষ্ট থেকে এবং বায়ু যা নিয়ে আসে তার অনিষ্ট থেকে।
আরো পড়ুন: শিশুদের হাম প্রতিরোধে করণীয় কি
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত, তিনি আরাফাতের ময়দানে আসরের নামায শেষ করে হাত উত্তোলন করে উকুফে আরাফায় মশগুল হয়ে যেতেন এবং তিনবার اللهُ أَكْبَرُ وَلِلَّهِ الْحَمْدُ পড়তেন। অতঃপর لا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ لَهُ for fa به الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ দোয়া পড়তেন:
اللَّهُمَّ اهْدِنِي بِالْهُدَى وَنَقْنِي بِالتَّقْوَى وَاغْفِرْ لِي فِي الْآخِرَةِ وَالْأُولى
“হে আল্লাহ! আমাকে হেদায়েতের ওপর অবিচল রাখ এবং-তাকওয়ার মাধ্যমে আমাকে পূত-পবিত্র করে দাও। আমাকে তুমি দুনিয়া ও আখেরাতে ক্ষমা করে দাও।"
এরপর হাত নামাতেন এবং সূরা ফাতিহা পড়ার সময় পরিমাণ নিরব থেকে আবার হাত উত্তোলন করতেন এবং উপরে বর্ণিত নিয়মে দোয়া করতেন। (হিসনে হাসীন)
উপরোক্ত দোয়াসমূহ ছাড়াও যা ইচ্ছা এবং যে কোন ভাষায় ইচ্ছা দোয়া করবে। অন্তরকে পূর্ণ মনযোগী করে এবং বিনয়-কাতরতার সাথে দোয়া করবে। কারণ, প্রকৃত দোয়া হল যা অন্তর থেকে নিঃস্বরিত হয়। আরাফাতের সাথে সম্পৃক্ত যেসব দোয়া হাদিস দ্বারা প্রমাণিত এবং যা পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, তার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া উচিত। দোয়ার মাঝে মাঝে তালবিয়াও পাঠ করবে।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে অসংখ্য সারগর্ভদোয়া বর্ণিত আছে। যা বিশেষ কোন সময় বা স্থানের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। উক্ত দোয়াসমূহ যে কোন সময় করা যায়। উক্ত দোয়াসমূহ 'আল-হিযবুল আ'যম' ও 'মুনাজাতে মাকবুল' কিতাবে সন্নিবেশিত হয়েছে। ইচ্ছা করলে উক্ত কিতাব থেকে যে কোন দোয়া আরাফাতের ময়দানে করে নিবে। আরাফাতে যথেষ্ট সময় পাওয়া যায়। তাতে অনেক কিছু পড়া ও চাওয়া সম্ভব।
কোন কোন বুযুর্গ নিজস্ব দৃষ্টিকোণ থেকে এ স্থানের জন্য কিছু দোয়া নির্বাচন করেছেন। যা পুস্তকাকারে প্রকাশিত হয়েছে। উক্ত দোয়াসমূহ পড়াতেও কোন দোষ নেই।
এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url