মধু পূর্ণিমা ২০২৩ খ্রিঃ

 মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধদের অন্যতম একটি ধর্মীয় উৎসব। এ দিনটি বৈদ্য ইতিহাস একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যময় দিন। ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এ উৎসব পালন করা হয়।

মধু পূর্ণিমা কি সরকারি ছুটির দিন?  সাধারণত এ বিষয়টি অনেকেই জানেন না। যেহেতু আমাদের বাংলাদেশে ইসলাম ধর্মালম্বীদের সংখ্যা বেশি তাই মধু পূর্ণিমা কি সরকারি ছুটির দিন অনেকেই এ বিষয়ে সম্পর্কে অবগত নন।

আজকে আপনাদেরকে মধু পূর্ণিমা সরকারি ছুটির দিন কি?  এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে, তাহলে দেরি না করে মধু পূর্ণিমা কি সরকারি ছুটির দিন?  চলুন  জেনে নেই মধু পূর্ণিমা সম্পর্কে, বিস্তারিত জানতে হলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ সহকারে আর্টিকেলটি পড়ুন।

আরো পড়ুন ঃ লালবাগের কেল্লা লালবাগ ঢাকা

পোস্ট সূচিপত্রঃ

ঐতিহাসিক ইতিহাসঃ 

তথ্যগত বুদ্ধ কোশাম্বীতে ভিক্ষু সংঘসহ অবস্থান করার সময় বিনয়ধর পন্থী  ভিক্ষু ও সূত্রধর পন্থী ভিক্ষুর মধ্যে বিনয় সম্পর্কিত একটি বিষয় নিয়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ বিষয়ে নিয়ে উভয় পন্থী ভিক্ষুদের মধ্যে মত  দ্বৈততা চরম আকার ধারণ করলে তথাগত বুদ্ধ তাদের বিবাদ মীমাংসা করার প্রচেষ্টা করেন। কিন্তু উভয় পক্ষ তাদের স্ব স্ব  মতের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করেন। ফলে বিবাদ মীমাংসা করা সম্ভব না হওয়ায় বুদ্ধ কোশাম্বী ত্যাগ করে পারিলেয়্য বনে বর্ষা যাপন কালে একটি একাচারী হাতি প্রতিদিন বুদ্ধের সেবা করত । বনের ফল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত। এ সময় বনের একটি বানর হস্তীরাজ কর্তৃক বুদ্ধকে সেবা করতে দেখে তারও বুদ্ধকে পূজা করার ইচ্ছা জাগে। ভাদ্র পূর্ণিমাতে সে একটি মৌচাক সংগ্রহ করে বৃদ্ধকে দান করেন। মৌচাকে মৌমাছির ছানা ও ডিম থাকায় বুদ্ধ প্রথমে মধু পান করলেন না। বানর তা বুঝতে পেরে মৌচাকটি নিয়ে ছানা ও ডিম পরিষ্কার করে পুনরায় বুদ্ধকে দান করলে এবার বুদ্ধ মধু পান করেন। মধু পান করতে দেখে বানর খুশিতে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বৃক্ষ শাখা হতে বৃক্ষ শাখায় লাফাতে লাগলো। হঠাৎ অসাবধানতা বসত  বৃক্ষের শাখা ভেঙ্গে বানর মাটিতে পড়ে গাছের গোড়ায় আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল। বুদ্ধকে মধু পান এবং বুদ্ধের প্রতি প্রসন্নচিত্র হয়ে মৃত্যুবরণ করার পর বানর তাবতিংস স্বর্গে ত্রিশ যোজন বিসতৃত কোনক বিমান ও সহস্র অপ্সরা লাভ করল। পারিলেয়া বনে হস্তিরাজ কর্তৃক ভগবান বুদ্ধের সেবাপ্রাপ্তি ও বানরের মধু দানের কারণে এই দিনটি বৌদ্ধদের কাছে স্মরণীয় ও আনন্দ -উৎসবমুখর পূণ্যময় একটি দিন।

এ দিনটি উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায় বুদ্ধ পূজা, সীবলী পূজা, শীল গ্রহণ, সংঘদান, মধু ও ভেষজ  দান, বাতি প্রজ্বলন, ভিক্ষু সংঘকে পিগুদানসহ নানা ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করে থাকে। মধু পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধদের দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে।

মধু পূর্ণিমা কাকে বলা হয় ঃ

মধু পূর্ণিমা সরকারি ছুটির দিন? এ বিষয়টি জানতে হলে প্রথমে মধু পূর্ণিমা কাকে বলে সে সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। কারণ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধধর্মালম্বীদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিন। মধু পূর্ণিমা কাকে বলা হয়, বিশেষ করে বর্তমান বৌদ্ধদের জন্য এটা বোঝা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ এটা তাদের ধর্ম যা তারা নিয়মিত পালন করে। মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। এটি বৌদ্ধ ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন।

সাধারণত ভগবান বুদ্ধকে বনে একটি বানর মধু নিবেদন করে এবং ভগবান বুদ্ধ সেই মধু পান করেন এবং বানরটি খুব খুশি হয়ে এ গাছ থেকে  ওগাছে লাফ দেয় এবং বানরটি গাছ থেকে পড়ে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। এই দিনটি পূর্ণিমা তিথিতে হাওয়ায় একে মধু পূর্ণিমা বলা হয়।

মধু পূর্ণিমা কত তারিখ ঃ

মধু পূর্ণিমা সরকারি ছুটির দিন? এ বিষয়টি জানতে হলে প্রথমে মধু পূর্ণিমার তারিখ জানতে হবে তাহলে জানতে পারবেন ওই তারিখ ছুটির দিন কিনা। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি পূজা পণ্যের দিন হল মধু পূর্ণিমা।

 এই দিনে প্রত্যেক বৌদ্ধ বিভিন্ন শিক্ষা গ্রহণ করে। নিঃস্বার্থ ও নিবেদিত প্রাণ হওয়া অন্যতম শিক্ষা। আমরা যদি বাংলা ক্যালেন্ডার পালন করি তবে এ বছর মধু পূর্ণিমা হবে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ।

যেহেতু এটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের জন্য একটি বড় উৎসব, তাই আপনাকে অবশ্যই এই বিষয়গুলি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে জানতে হবে। আশা করি মধু পূর্ণিমার তারিখ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পেয়েছেন।

আরো পড়ুন ঃ উত্তরা গণভবন নাটোর জেলা

মধু পূর্ণিমা সরকারি ছুটির দিন ঃ

বছর শুরুর আগেই ছুটির তালিকা ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকার। এই ছুটির মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন ধর্মের আচার-অনুষ্ঠান। সেই সব ধর্মের মধ্যে একটি হল বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব। অনেকে মধু পূর্ণিমা সরকারি ছুটির দিন? এই বিষয়ে জানি না।

আসুন তাদের বলি যে যখন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয় মধু পূর্ণিমা সাধারণত ছুটির তালিকা উল্লেখ করা হয়। ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুসারে মধু পূর্ণিমা ২৮ সেপ্টেম্বর পালিত হবে। তাই সে মোতাবেক ২৮ সেক্টর বাংলাদেশে সরকারি ভাবে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এখন ছুটির তালিকা অনুযায়ী আমরা স্পষ্ট ভাবে বলতে পারি যে মধু পূর্ণিমা একটি সরকারি ছুটি। অন্যান্য দিনের মতো এ দিনও সরকারি সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে। এমন কি স্কুল কলেজ সহ বেশকিছু  প্রতিষ্ঠান ও বন্ধ থাকে। আশা করি মধু পূর্ণিমা সরকারি ছুটির দিন এই প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর পেয়েছেন।

মধু পূর্ণিমা পালনের কারণ ঃ

এই পৃথিবীতে আমাদের অনেক ধর্ম আছে। এই ধর্ম গুলির মধ্যে একটি হলো বৌদ্ধ ধর্ম। পৃথিবীর সব ধর্মেই রয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব। একইভাবে বৌদ্ধদের ও উৎসব রয়েছে, যার মধ্যে একটি হল মধু পূর্ণিমা। মধু পূর্ণিমার দিনটি প্রত্যেক বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ। 

মধু পূর্ণিমা এই উৎসব ঐতিহাসিকভাবে একজন নির্বাচিত আধ্যাত্মিক শিক্ষক বা নেতাকে সম্মান করে প্রতিবছর আষাঢ় মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এই দিনটি পালন করা হয়। মধু পূর্ণিমা এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা বিভিন্ন উৎসব এবং আনন্দের সাথে উদযাপন করে। বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থান সহ পার্বত্য চট্টগ্রাম এর খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান জেলায় বেশি দেখা যায়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দিনব্যাপী মধুর দানের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ভগবান বুদ্ধ পারিলেয়া বনে তার জীবন পরিচালনা করতে থাকেন যখন একটি হাতি প্রতিদিন বুদ্ধের সেবা করত। ভগবান বুদ্ধকে বনজ ফল সংগ্রহ করে দান করতেন। হাতির এই তৎপরতা দেখে বনের একটি বানর বুদ্ধের পূজা করার ইচ্ছে পোষণ করলো। ভাদ্র পূর্ণিমায় বনের বানর মধুতে ভরা একটি মৌচাক সংগ্রহ করে এবং বুদ্ধকে দান করে কিন্তু সেই মৌচাকের মৌমাছি ও ডিম থাকায় বুদ্ধ প্রথমে মধু পান করেন নি তখন বানরটি বিষয়টি বুঝতে পেরে মধুর মৌচাকটি নিয়ে  মৌমাছির ছানা ও ডিম পরিষ্কার করে ভগবান বুদ্ধ কে মধু প্রদান করে। এবার ভগবান বুদ্ধ ও তৃপ্তি সহকার মধু পান করলেন। ভগবান বুদ্ধকে মধু পান করতে দেখে বানরটি আনন্দে এ গাছ থেকে ওগাছে কাছে লাফিয়ে উঠলো হঠাৎ এক ডাল থেকে অন্য ডালে যাওয়ার সময় অসাবধানতা বসত গাছের একটি অংশ ধাক্কা খেয়ে মাটিতে পড়ে যায় এবং মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং শেষ পর্যন্ত মারা যায়। বুদ্ধকে মধু প্রদান করে এবং বুদ্ধের প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে  বানরটি ত্রিশ যোজন কোনক বিমান ও সহস্র অপ্সরা  স্বর্গ লাভ করে। ভগবান বুদ্ধের সেবা করার জন্য বনের হাতি এবং বানরের মধু নিবন্ধনের মানসিকতার কারণে এই দিনটি বৌদ্ধ ধর্মের লোকেরা অনেক বেশি স্মরণ করে। এই দিনটি বৌদ্ধরা খুব আনন্দের সাথে উদযাপন করে, সাধারণত তাদের কাছে থেকে শেখার জন্য এবং তাদের মনে রাখার জন্য।

ধন্যবাদ***


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

এই ওয়েবসাইটের নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url